মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ডালিম এর চাষ পদ্ধতি ।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ডালিম চাষ হয়ে আসছে । এর ফলে যথেষ্ট পরিমাণে পুষ্টি ও ভেষজ গুণ রয়েছে । এছাড়া দেশে উৎপাদন কম হওয়ায় ডালিম প্রচুর পরিমাণ আমদানি করা হয় বিভিন্ন দেশ থেকে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে ডালিমের উৎপাদন কম হওয়া , কিন্তু সঠিক নিয়মে ডালিম চাষ পদ্ধতি জেনে চাষ করতে পারলে ডালিম চাষে প্রচুর লাভ করা সম্ভব।

ডালিম চাষের আবহাওয়া
            গরম ও শুষ্ক গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়া সবচেয়ে ভালো ডালিম চাষের জন্য ভেজা আবহাওয়ায় ভালো মানের ফল পাওয়া যায় না । পাহাড়ের 600 মিটার পর্যন্ত উচ্চতায়ও এ গাছ চাষ করা যায়। 
 

মাটি
বেলে দোআঁশ মাটি বা পলিমাটি যেখানে মাটির গভীরতা বেশি সেখানে সবচেয়ে ভালো চাষ হয় । পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে ঐ জায়গায় ডালিম চাষ করা যায় না। সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকলে ভিজে মাটিতে ও এই গাছ বেঁচে থাকে।মাটিতে অল্প পরিমাণ ক্ষার থাকলেও কোনো সমস্যা হবে না। ডালিম চাষ পদ্ধতি

ডালিম গাছের বংশ বিস্তার
শাখা কলম ও গুটি কলমের মাধ্যমে মূলত ডালিম গাছের বংশ বিস্তার করা যায়। বীজ থেকে উৎপাদিত চারায় ফলের পূর্ব গুণমান সব সময় সমান ভাবে পাওয়া যায় না । তাছাড়া বীজের গাছে ফল আসতে পাঁচ থেকে ছয় বছর লাগে। শাখা বা গুটি কলমের মাধ্যমে বর্ষাকালে চারা তৈরি করা সর্বাপেক্ষা ভালো । এসব ছাড়া থেকে তিন বছর পর থেকেই ফল পাওয়া যায় । শাখা কলম এর জন্য 30 সেন্টিমিটার লম্বা শক্ত ডাল নির্বাচন করা প্রয়োজন। নার্সারিতে বর্ষাকালে শাখা কলম তৈরি করে 9 থেকে 10 মাসের পালন করার পর মূল জমিতে বসানো যায় । সাধারণত শাখা কলম তৈরির পুরোনো পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে এবং সেরাডিক্স b3 হরমোন পাউডার ব্যবহার করলে দ্রুত কলমে শিকর আসে। ডালিম চাষ পদ্ধতি।

ডালিমের বিভিন্ন জাত
বাংলাদেশে যেসব উন্নত জাতের ডালিম চাষ করা হয় এর মধ্যে পেপার শেল ,মাসকেড রেড স্প‍্যানিশ রুবি উল্লেখযোগ্য। এদের শাঁস সাধারণত গোলাপী হয়ে থাকে।

ডালিম চাষের জমি তৈরি
ডালিমের চারা লাগানোর একমাস আগে থেকে জমি কয়েকবার চাষ দিয়ে মাটি আলগা করে নিতে হবে । এরপর চারা বসানোর 15 দিন আগে গর্ত তৈরি করতে হবে । গর্তের মাপ হবে 60 cm/ 60 cm/ 60 সেন্টিমিটার। প্রতি গর্তে ১৫ কেজি গোবর আড়াইশো গ্রাম হাড়ের গুঁড়ো মাটির সাথে মিশিয়ে গর্ত বন্ধ করে রাখতে হবে।


ডালিমের চারা রোপন পদ্ধতি
চাড়া গর্তের মাঝ বরাবর যারা বসিয়ে পানি সেচ দিতে হবে যারা সোজাভাবে দাঁড় করানোর জন্য উপরে মাটি চাপ দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দিতে হবে গাছ লাগানোর জন্য ফল বাগানে পুরো কাজ হিসেবে লাগানো যাবে চারা রোপণের সময় জুন থেকে জুলাই মাসের মধ্যে একটি চারা থেকে চারার দূরত্ব হবে চার থেকে পাঁচ মিটার।

ডালিম গাছে সার প্রয়োগ
ডালিমের ভালো ফলনের জন্য সার প্রয়োগ আবশ্যক বাড়ন্ত গাছে বর্ষার আগে জৈব সার দিতে হবে 3 থেকে 5 বছরের একটি গাছে অর্থাৎ জাতের ফল ধরে এমন একটি গাছে গোবর বা জৈব সার 10 থেকে 15 কেজি হাড়ের গুঁড়ো আড়াইশ গ্রাম দিতে হবে এছাড়া ফল আসার পর নাইট্রোজেন সার মানে ইউরিয়া 250 গ্রাম পরিমাণে দিতে হবে । 

ডালিম গাছে পানি সেচ

        ফলন্ত বাসে গাছে নিয়মিত হালকা সেচ দিতে হবে গোড়ার মাটি কখনোই বেশি শুকাতে দেয়া যাবে না এবং পানীয় যন্ত্র দেয়া যাবে না ছোট অবস্থায় ও সার দেয়ার পর সেচ আবশ্যক । 

ডালিম গাছের যত্ন ও পরিচর্চা

      সঠিক ফলন পেতে হলে অবশ্যই ডালিম গাছের যত্ন নেয়া প্রয়োজন অন্যান্য গাছের যত্ন থেকে ডালিম গাছের যত্ন নেয়াটা তুলনামূলক একটু অন্যরকম কারণ এই গাছের যত্ন নেয়া অন্য গাছের তুলনায় কিছুটা কঠিন।সাধারণত ডালিমের ফুল আসে বসন্ত কালে , তবে অনেক জায়গায় সারাবছরেই ফুল আসতে দেখা যায়। বসন্তকালের ফুল থেকে গ্রীষ্মকালে ফল হয় । এ সময় ফলের চাহিদা বেশি থাকে যদিও ফলের মান গ্রীষ্মকালে খুব একটা ভালো হয়না। ভালো দাম পাওয়া যায় বলে। ফলন বেশি পাওয়ার জন্য কৃত্রিম উপায়ে বর্ষার শুরুতে গাছে ফুল ধরতে বাধ্য করানো হয় । এজন্য মার্চ-এপ্রিল মাসে গাছের গোড়ার চারপাশের মাটি 16 cm সরিয়ে শিকড়গুলো 15 দিন উন্মুক্ত রাখা হয়। এরপর ঐ যায়গায় সার প্রয়োগ করে গোড়ায় মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। এই অতিরিক্ত সার প্রয়োগের পরপরই সেচ দিতে হবে। দ্রুত বর্ষা না নামলে আরও দুই-তিনটি সেচ দিতে হবে । এই পদ্ধতিটি অনুসরণ করে সঠিক ভাবে ডালিম গাছের যত্ন ও পরিচর্চা করলে অক্টোবর থেকে নাম্বার মাসে ফল পাকে ও পাড়ার উপযুক্ত হয় । এছাড়া গাছের একটি বা দুটি প্রধান শাখা রেখে বাকিগুলো কেটে দিতে হবে। লম্বা ও সরু ডাল ছাটাই করে পাতলা করে দেয়া হয় ফল সাধারনত পুরোনো ডালের আগার দিকে ধরে থাকে।

ডালিম গাছের ফলন
কলমের কাছে গাছে তিন থেকে চার বছর বয়সে ফলন শুরু হয় যদিও সাত থেকে আট বছরের আগে ভালো ফলন পাওয়া যায় না। ফুল আসার সময় থেকে ছয় মাসের মধ্যে ফল পাকা শুরু হয়। পাকার আগে ফলের খোসা হলদে বাদামি রং ধারণ করে এতে করে বোঝা যায় ফল সংগ্রহের উপযুক্ত সময় হয়েছে। গাছে ফল বেশি দিন রেখে দিলে ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেসব গাছের ফল ফেটে যাওয়ার প্রবণতা থাকে সেখানে পুষ্ট হওয়ার একটু আগেই ফল পেড়ে নেয়া ভালো হবে । ডালিমের খোসা বেশ মোটা হওয়ার কারনে অনেকদিন লেখা যায়ও পরিবহনের নষ্ট সম্ভাবনা কম থাকে। এছাড়া ফলনের হিসাব করতে গেলে তাহলে পরে গড়ে প্রতি গাছে 200 থেকে 500 টি ফল পাওয়া যায় এছাড়া বেদানা কানধারীর ফলন গড়ে প্রতি গেছে 50 থেকে 200 টি ।পাকা ফল বেশি দিন সংরক্ষণ করে রাখা যায় তবে কাঁচা ফল বা ফলে আঘাত লাগলে বেশি দিন রাখা যায় না। 

ডালিম গাছের রোগ বালাই ও প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা

ডালিমের ফল ফেটে যাওয়া একটি মারাত্মক রোগ এ রোগের নির্দিষ্ট কোনো প্রতিকার না থাকলেও নিয়মিত হালকা সেচ দিলে ও জৈবসার প্রয়োগ করলে ফল ফেটে যাওয়া অনেকটাই কমিয়ে রাখা যায় বা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা যায় । এজন্য ডালিম গাছের রোগ বালাই ও প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা খুব প্রয়োজন। কোনো কোনো সময় এ রোগের কবলে পড়ে প্রায় ৫০ পার্সেন্ট ফল নষ্ট হয়ে যায়। শুস্ক মৌসুমে অনেক সময় গাছের গোড়ায় হঠাৎ রসের অভাব হলে বৃদ্ধি ব্যাহত হয় । ফলে ফলের খোসা নরম হয়ে যায় ।এবার হঠাৎ বৃষ্টি পেলে রসের আধিক্য ঘটে যার ফলে চাপ সহ্য করতে না পেরে ফল ফেটে যায় ।ডালিম চাষ পদ্ধতি

ডালিমের ফল ছিদ্রকারী পোকা :
        ডালিম গাছের রোগ বালাই ও প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা এর কাজ গুলোর মধ্যে ফল ছিদ্রকারী পোকা দমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এই পোকা ফলের গায়ে ডিম পাড়ে এবং ডিম থেকে উৎপন্ন শুককীট ফলের শাঁস খেয়ে ভেতর থেকে অগ্রসর হয় এবং পরে মুক কীটে পরিণত হওয়ার পূর্বে ত্বকে গোলাকার ছিদ্র করে বেরিয়ে আসে যার ফলে আক্রান্ত ফল আর খাওয়ার উপযোগী থাকে না ।

ফল ছিদ্রকারী পোকার প্রতিরোধ :
        ফল ছোট থাকা অবস্থায় পাতলা কাপড় বা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে । ফল ধরার সময় থেকে সুমিথিয়ন বা ফলিথিয়ন ২ গ্ৰাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর ২-৩ বার করে স্প্রে করতে হবে।

ডালিম গাছে মাকড় দমন
        অতি ক্ষুদ্র অতি ক্ষুদ্র এই পোকা পূণাঙ্গ অবস্থায় পাতার তলায় থাকে রস চুষে খায় । যার ফলে আক্রান্ত পাতা কুঁকড়ে এবং শুকিয়ে যায় প্রতিরোধের জন্য প্রতি 10 লিটার পানিতে 2 গ্রাম পরিমাণ কেলথেন মিশিয়ে গাছে বিশেষ করে পাতার তলায় ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে।

এই নিয়ম গুলো মেনে চাষ করলে ডালিম গাছের রোগ প্রতিরোধ করা যাবে । 

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter